সুজানগরে ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে শতাধিক বিঘার ধান সুজানগরে ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে শতাধিক বিঘার ধান – দৈনিক পাবনা
  1. admin@dainikpabna.com : admin :
  2. rakibhasnatpabna@gmail.com : Rakib Hasnat : Rakib Hasnat
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক পাবনা ওয়েব সাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম-- এখানে আপনি আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন /আপনার প্রিয়জনের জন্ম দিনের শুভেচ্ছা পাঠাতে পারেন। আমরা স্ক্রলে দেখাবো-Email: dainikpabna@gmail.com Mobile-01303102548/ 01712547680 /  01763068936 / 01719328407

সুজানগরে ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে শতাধিক বিঘার ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২
  • ৬৩ বার পঠিত

পাবনার সুজানগরে ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে পুড়ে গেছে কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির ধান। উঠতি ফসলের এমন অবস্থায় রোববার (১৭ এপ্রিল) ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কৃষকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বনভূমি, অভয়ারণ্য, জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকায় ও বছরে একের অধিক উৎপাদিত ফসলি কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ। কিন্তু সে আইন লঙ্ঘন করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন ইটভাটা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার কাছে কয়েক একর জমির ধান সাদা রং ধারণ করেছে। পাশাপাশি পুড়েও গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সব পেকে গেছে। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় সব চিটা। শুধু তা-ই নয়, সবজিসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। উঠতি ফসলের এ অবস্থায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলার হাটখালী গ্রাম ধান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের আয়ের মূল চলনশক্তি জমিতে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে গ্রামের ফসলি জমির ওপর গড়ে তোলা হয় ‘একতা ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা। পরে বদল করে রাখা হয় ‘নিদি ব্রিকস’ নামে। ওই ইটভাটাসহ উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটারই লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। কাগজপত্র না থাকলেও ইট পোড়ানো হয় ওই সব ভাটায়।

হাটখালী গ্রামের কৃষক বকুল শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেন তিনি। এতে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। কিছুদিনের মধ্যে ধান ঘরে তোলা যেত। এরই মধ্যে নিদি ইটভাটার আগুনের তাপে পুড়ে গেছে তার জমির ফসল। ধান ঘরে না উঠলে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের খাদ্যের জোগান নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক লোকমান শেখ ও মহন উদ্দিন জানান, ফসলি জমির ওপর ওই ভাটা গড়ে ওঠার শুরু থেকে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু তাদের কথা শোনা হয়নি। অনেক বাধার পরও অদৃশ্য কারণে এ ভাটাসহ স্থানীয় কয়েকটি ভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হয় ইট। এরই মাঝে নিদি ইটভাটার পাশে তাদের মতো আরও অনেক কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর তারা বিঘাপ্রতি প্রায় ২১ মণ হারে ধান পেয়েছিলেন। এ বছর উঠতি ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাদ্য নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সময় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।

কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইটভাটা মালিক শাহজাহান হোসেন জানান, ইটভাটার চেম্বার বসে যাওয়ায় গরম গ্যাস বের হয়ে গত শনিবার কিছু ধানক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দিতে শিগগিরই কৃষকদের সঙ্গে বসা হবে। তবে ভাটার বৈধ কাগজপত্র ও ইট পোড়াতে জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইটভাটার চুল্লি থেকে বের হওয়া গ্যাসের তাপের কারণে কয়েক একর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রওশন আলী জানান, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক পাবনা
Themes Customized By Shakil IT Park